ঢাকা, শনিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩, ০১ জিলক্বদ ১৪৪৭ | এখন সময়:

Advertise@01680 34 27 34

অনুদানের সিনেমার খবর কী


অনলাইন ডেস্কঃ

প্রকাশিত:   ১০:০৯ পিএম, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট:   ১০:০৯ পিএম, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১  
অনুদানের সিনেমার খবর কী
অনুদানের সিনেমার খবর কী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রথম চেক পাওয়ার ৯ মাসের মধ্যে অনুদানের সিনেমার শুটিংসহ যাবতীয় কাজ শেষ করে জমা দিতে হবে। তবে চিত্রনাট্যের বিশেষ প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার চাইলে এ সময় বৃদ্ধি করতে পারে। এ নিয়ম অনুযায়ী, ২০১৯-২০ সালে অনুদান পাওয়া সব ছবির কাজই শেষ করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ার কথা। কিন্তু নির্মাতা ও প্রযোজক সূত্রে জানা যায়, অনুদান পাওয়া ১৬টি সিনেমার একটিও জমা পড়েনি। ১০টির কাজ শুরু হলেও বাকি ৬টি সিনেমার শুটিংও শুরুই হয়নি। প্রযোজক ও পরিচালকের মধ্যে দ্বন্দ্ব, অভিনয়শিল্পী ও লোকেশন বাছাই, সহপ্রযোজক সংগ্রহসহ অন্যান্য জটিলতার কারণে ছয়টি সিনেমার শুটিং শুরু হচ্ছে না। তাঁরা কেউ পরিস্থিতি বুঝে শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছেন।

২০১৯-২০ অর্থবছরে সাধারণ শাখায় ১১টি, মুক্তিযুদ্ধে ৩টি ও শিশুতোষ শাখায় ২টি সিনেমা অনুদান পায়। এসব সিনেমার জন্য বরাদ্দ হয় ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে সাধারণ শাখায় ভালোবাসার প্রীতিলতা, হৃদিতা, গাঙকুমারী, ছায়াবৃক্ষ, আশীর্বাদ, লেখক (নাম বদলে হয়েছে মুখোশ), ফিরে দেখা; মুক্তিযুদ্ধ শাখায় একটি না বলা গল্প এবং শিশুতোষ শাখায় মেঘ রোদ্দুর খেলা, রাসেলের জন্য অপেক্ষা সিনেমাগুলোর কাজ শুরু হয়েছে।

এর মধ্যে ছায়াবৃক্ষ, আশীর্বাদ, মুখোশ, একটি না বলা গল্প, মেঘ রোদ্দুর খেলা, হৃদিতার প্রায় শতভাগ শুটিং শেষ। তাঁরা কেউ কেউ ডাবিংও শুরু করেছেন। মুখোশ, মেঘ রোদ্দুর খেলাসহ চারটি সিনেমার ডাবিং শেষ। কিছু সিনেমার ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ শুটিং শেষ হয়েছে। কিন্তু নানা কারণে এখনো শুটিংই শুরু হয়নি কাজল রেখা, ফুটবল ৭১, শ্যামাকাব্য, বিলডাকিনি, যোদ্ধা, টুঙ্গিপাড়ার দুঃসাহসী খোকা সিনেমাগুলোর। কেউ কেউ মাত্র শুটিংয়ের পরিকল্পনা করছেন।

বিলডাকিনি সিনেমার প্রস্তাবিত নির্মাতা মনজুরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার সিনেমার শুটিং এত দিনে শেষ হয়ে যেত। আমি প্রযোজক কর্তৃক প্রতারিত হওয়ায় সিনেমাটির কাজ আটকে আছে। সিনেমাটিতে প্রযোজক হিসেবে আমার নাম যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা দেননি। তাঁরা আমার নামে থাকা উপন্যাসের কপিরাইট স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে জমা দিয়েছেন। এখন আমি কপিরাইট দেব না।’ তাহলে সিনেমাটি আলোর মুখ দেখবে কীভাবে? ‘আমি মিউচুয়ালের কথা বলেছিলাম। তাঁরা অনুদানের জন্য জমা দেওয়া চিত্রনাট্য পরিবর্তন করে বলেছিলেন, ৩০ লাখ টাকার মধ্যে সিনেমা বানাতে। এখন শুনছি, তাঁরা আমাকে বাদ দিয়ে অন্য নির্মাতাকে দিয়ে সিনেমা বানাতে চান।’

সিনেমাটির প্রযোজক আবদুল মমিন খান বলেন, ‘সিনেমার প্রযোজক আমিই। নিয়ম মেনেই সব জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি (মনজুরুল ইসলাম) মিথ্যা বলে আমাকে বিতর্কিত করছেন। আমি এবং উপন্যাসটির লেখক চিত্রনাট্যের কিছু পরিবর্তন করে তাঁকে সিনেমাটি বানাতে বলি। এ জন্য সব সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দিই। কিন্তু তিনি পুরো টাকা দিয়ে নিজের মতো করে সিনেমা বানাতে চান। প্রযোজক হিসেবে এটা আমি করতে দিতে পারি না। এই অর্থে যদি সিনেমাটি শেষ না হয়, তখন সরকারের কাছে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে। এ জন্য আমরা নিয়ম মেনে নতুন পরিচালকের কথা ভেবেছি।’

কাজলরেখা সিনেমার নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘মহামারির মধ্যে অনুদানটা পেয়েছি। এটা অনেক বড় একটা প্রজেক্ট। এই সময়ে শুটিং করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন পরিস্থিতি একটু ভালোর দিকে। আমরা খুব শিগগির বাকি ইনভেস্টর জোগাড় করে শুটিংয়ে যাব।’ শ্যামাকাব্য সিনেমার নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ বলেন, ‘করোনার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে আমরা শুটিং করতে পারিনি। পরে আমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলাম এক বছর সময় বাড়িয়ে দেওয়া জন্য। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা সুযোগ দিয়েছে। আশা করছি, আগামী বছর সিনেমাটির শুটিং শুরু করব।’   

টুঙ্গিপাড়ার দুঃসাহসী খোকা সিনেমার প্রযোজক ও পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজারকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তাঁর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, তিনি এখনো শুটিং লোকেশন খুঁজছেন। মুক্তিযুদ্ধ শাখায় যোদ্ধা সিনেমার জন্য পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে অনুদান পেয়েছিলেন এস এ হক অলিক। বর্তমানে তিনি ব্যস্ত এ বছর অনুদান পাওয়া গলুই নিয়ে। প্রথম সিনেমা রেখে কেন দ্বিতীয় সিনেমার শুটিং করছেন, জানতে চাইলে বলেন, ‘জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির শীতের সময়টা আমাদের গল্পের জন্য দরকার। গত বছর ওই সময়ে বাড়তে শুরু করে করোনা, লকডাউনে পিছিয়ে যায় সিনেমার কাজ। কাস্টিং রেডি আছে। এখন শীতের জন্য অপেক্ষা করছি।’ 

এর মধ্যে একটি না বলা গল্প সিনেমাটির কাজ নানা বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যায়ে। পরিচালক পঙ্কজ পালিত বলেন, ‘করোনার কারণেই আমরা বারবার পরিকল্পনা পিছিয়েছি। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শেষ লটের শুটিং শুরু করেছি। এখন দ্রুত কাজ শেষ করব।’ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করেই ফুটবল ৭১ সিনেমার গল্প। গল্পের পরিসর বড়। সিনেমার পরিচালক অনম বিশ্বাস বলেন, ‘প্রস্তুতি অনেকটাই নিয়েছি। কিন্তু করোনার কারণে শুটে যেতে পারিনি। তা ছাড়া সিনেমাটি জন্য যে অর্থ দরকার, সেটা অনুদানের টাকায় হয় না। সবকিছু মিলিয়ে সিনেমাটি ঘটমান পর্যায়ে রয়েছে।’ শিশুতোষ চলচ্চিত্র বিভাগে দুটি সিনেমা অনুদান পেয়েছে। মেঘ রোদ্দুর খেলার পরিচালক আওয়াল রেজা বলেন, ‘করোনার মধ্যে ঝুঁকি ও সচেতনতার কথা মাথায় রেখেই সময়মতো শুটিং শেষ করেছি। আগামী সপ্তাহে ডাবিং শুরু হবে। ডিসেম্বরে মুক্তি দেব।’ অন্যটি রাসেলের জন্য অপেক্ষা। সিনেমাটির অভিনয়শিল্পী সূত্রে জানা যায়, শিডিউল মিললেই সিনেমার বাকি শুটিং শুরু হবে। সিনেমাটির প্রযোজক ও পরিচালক নূরে আলম।

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন

সিনেমা বিনোদন ঢালিউড

আপনার মন্তব্য লিখুন...