শান্তিতে নোবেল এর ইতিহাস
অনলাইন ডেস্কঃ
প্রকাশিত: ০১:০৪ এএম, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯
আলফ্রেড নোবেল একজন বিজ্ঞানি ছিলেন। তিনি ডিনামাইট আবিস্কার করেন। তার এই ডিনামাইট ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ধংস যজ্ঞ শুরু হওয়ার প্রথম ধাপ। তার এই ডিনামাইট ব্যাবহার করে যুদ্ধ ক্ষেত্রে পশ্চিমারা পেতে থাকলো ব্যাপক সুবিধা আর যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হল লক্ষ লক্ষ মানুষ। সেই লোক তার মৃত্যুর আগে তার সমস্ত সম্পত্তি দিয়ে তৈরি করে গেলে একটি ট্রাস্ট। নোবেল ট্রাস্ট। তবে এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরস্কার হচ্ছে শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার।
যদিও বলা হয় শান্তির জন্য নোবেল দেয়া হয়। কিন্তু ইতিহাস ঘেটে ভয়ানক ব্যাপার দেখলাম। পুরো উল্টাবাস্থা। অল্প কিছু বাদে প্রায়ই অশান্তি আর পলিটিক্স করার জন্যই নোবেল দেয় হয়েছিল। চলুন দেখি সেই নোবলে গুলো কাদের এবং কি কারনে দেয়া হয়েছিল।
১) ১৯০৬ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট নোবেল পান রাশিয়ান সাম্রাজ্য আর জাপানিজ সম্রাজ্য এর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য। আসলে তৎকালিন সময়ে আমেরিকার প্রধানতম শত্রু জাপানরে রাশিয়ার সাথে একটা অপমানজনক চুক্তি করানোর জন্যই এই নোবেলটা তারে দেয়া হয়। পরে জাপান প্রচন্ড ক্ষুদ্ধ হয় আমেরিকার প্রতি এবং দ্বিতিয় বিশ্বযুদ্ধে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
২) ১৯১৯ সালে আমেরিকার উড্রোউইলসন নোবেল পান। কারন হচ্ছে তিনি জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। একচুয়ালি তৎকালিন সময়ে আমেরিকা আর তার মিত্রদেশগুলোকে এক প্লাট ফর্মে এনে বাকি দেশগোলোর ক্ষতির জন্য এই সফল উদ্যেগেকে নোবেল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
৩) ১৯২২ সালে ফ্রিজফ নানসেন কে দেওয়া হয় রাশিয়াকে একহাত দেখে নেয়ার জন্য। তিনি রাশিয়ার অল্পকিছু রিফুজিকে ফুলিয়ে একটা বিশাল কিছু বানিয়ে ফেলেছিলেন। বিষয়টা তৎকালিন রাশিয়ান সরকারকে এক দেখে নেয়ার মত হয়েছিল।
৪) ১৯২৫ সালে Austen Chamberlain আর Charles G. Dawes নুবেল পান প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিকে প্রথম পোঙ্গামারা দেয়ার জন্য। পোল্যান্ডকে জার্মানির হাতে ছাইরা দিয়া নিজেদের পাছা বাচানোর একটা সন্ধি করছিল। লাস্ট পর্যন্ত হিটলারের হাতে পোল্যান্ডে ইহুদি নিধনের এটাই মুল স্তম্ভ ছিল।
৫) পরের দুই বছর টানা এই কাজের জন্য টানা নোবেল দেয়া চলতে থাকে এর সাথে জড়িত কলাকুশিলিদের।
৬) এর পরের নোবেল গুলা যায় তাদের কাছে যারা সরাসরি জাতিসংঘ নামক নতুন সংস্থার সদস্য বৃদ্ধি করেছেন মুলত জার্মান বিরোধি জোট বৃদ্ধি হয়েছে।
৭) ১৯৩৮ সালে দ্বিতিয় বিশ্বযুদ্ধের আগেপর্যন্ত লাস্ট এই এওয়ার্ড পায় আন্তর্জাতিক রিফুজি সংস্থা। কি কারনে পায় তা এক বিরাট হিস্টোরি। তবে জেনে রাখেন প্রচুর মানুষ নিহত হয় তাদের এই হঠকারি কাজের ফলে।
৮) এর পর টানা ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত বন্ধ থাকে। ১৯৪৫ সালে প্রথম নোবেল পায় রেডক্রস। কারন কিছুনা খুবই সিম্পল। যুদ্ধক্ষেত্রে আমেরিকা আর ইংল্যান্ডের সৈন্যদের স্পেশাল কেয়ারের জন্য এবং ক্ষেত্র বিশেষে তাদের বিশেষ মাল বহনের জন্য।
৯) ১৯৪৮ সালে Ralph Bunche নোবেল পান। ফিলিস্তিনের জমি জোর কইরা ইহুদিদের হাতে দিয়া দেয়। আর সাথে সাথে ইসরাইল নামে একটা রাস্ট্র গঠনে আমেরিকা থেকে সর্বরকম সাহায্য সহোযোগিতা করে।
১০) ১৯৫৩ সালে General George C. Marshall, নোবেল পুরস্কার পান। আমেরিকান সেনাবাহিনির জেনারেল ছিলেন। রেডক্রসের যুদ্ধকালিন সময়ের প্রধান ছিলেন। এইবার বুঝতে পারছেন কিভাবে রেডক্রস যুদ্ধের সময় জার্মানির ক্ষতি করতে পেরেছিল।
১১) ১৯৫৪ সালে আন্তর্যাতিক রিফুজি সংস্থা আবারো নোবেল পায়। এইবার কারন খুব সিম্পল। ইহুদিদেরকে খুব সুন্দর ভাবে ফিলিস্তিনের জমিতে পুশইন করানোর জন্য। পরবর্তিতে ফিলিস্তিনের জমি দখল কলে তাদের জন্য ঘরবাড়ি নির্মান করে দেয়া।
১২)১৯৫৭ সালে Lester Bowles Pearson নোবেল পান। সে এক বিশাল কাহিনি। সুয়েজ খাল নিয়ে মিশর আর ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ইংল্যান্ড আর ফ্রান্স তাতে নাক গলায়। কিন্তু বাধ সাথে আমেরিকা আর রাশিয়া। এই ক্যাচাল গোছানোর সময় ইসরাইলকে সিনাই উপত্যাকার একটা অংশ দিয়া দেয় সাথে ইসরাইল এর জাহাজ গুলারে ফ্রি নেভিগেশনের সুবিধা দিয়ে দেয়। বিশাল প্রশ্ন হইতেছে এই যুদ্ধ যখন চলে তখন আরবের বাকি দেশগুলো কি করতেছিল?
১৩) ১৯৬২ সালে Linus Carl Pauling নোবেল পান পারমানবিক বোম টেস্টিং এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। কিন্তু সেটা তনি এমন সময়ে করেন যখন রাশিয়া পারমানবিক পরীক্ষা চলানোর চেস্টা করছিল। অথচ তার দেশ জাপানে লক্ষলক্ষ মানুষ হত্যা করছিল এই বোমা দিয়া।
১৪) ১৯৭৩ সালে হেনরি কিসিঞ্জার আর ভিয়েতনামের Le Duc Tho কে দেয়া হয়। আমেরিকা বনাম ভিয়েতনাম যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির জন্য। মুলত প্রাইজটার দাবিদার ছিলেন Le Duc Tho। কিন্তু দেয়া হয় দুই জনরে দুই পক্ষরেই ঠান্ডা রাখার জন্য। এর চেয়ে হাস্যকর আর কি হইতে পারে। যেখানে ভিয়েতনামে আমেরিকা অযথা লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করছিল।
১৫)১৯৭৪ সলে তৎকালিন জাপানের প্রধান মন্ত্রি Eisaku Satō কে নোবেল দেয়া হয় নিজের দেশের পারমানবিক অস্ত্র ধংস্ব কইরা আমেরিকার উপর সম্পুর্ন নির্ভর হয়ে যাওয়ার জন্য।
চলবে.....
